নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ | 37 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য অর্থ উত্তোলনের বিধিনিষেধ আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু নিজের চিকিৎসা নয়, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এ সুবিধার আওতায় থাকছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকরা। এ পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে ঘোষিত অর্থ ফেরত দেওয়ার স্কিম অনুযায়ী কেবল গ্রাহকের নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক গ্রাহকের চিকিৎসা ছাড়াও বিভিন্ন পারিবারিক বা ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। পরিবারের সদস্যের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে কিংবা অন্য জরুরি প্রয়োজন থাকলেও আগের স্কিমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল না। সংশোধিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।
এছাড়া আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার গ্রাহককে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। ব্যাপক অনিয়ম ও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণ বিতরণের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।
Posted ৯:২৮ পিএম | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.